নবম (৯ম) ভূগোল ৫ম সপ্তাহ অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান দেখুন এখানে।

মানবিক শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য ভূগোল ৫ম সপ্তাহ অ্যাসাইনমেন্টের একটি নমুনা কপি দেওয়া হলো। তোমরা ভূগোল ৫ম সপ্তাহের এর অ্যাসাইনমেন্ট টা একটু কমিয়ে বাড়িয়ে লিখতে পারো। আবার হুবুহু লিখে দিতেও পারো। আমার নির্দেশনা থাকবে একটু এদিক ওদিক করে লেখার।
নবম (৯ম) ভূগোল ৫ম সপ্তাহ অ্যাসাইনমেন্ট

শিরোনামঃ ২নং ভূগোল অ্যাসাইনমেন্ট

আরো পড়ুনঃ

আরো দেখুনঃ

    ভূগোল ৫ম সপ্তাহের প্রশ্নগুলো দেখুনঃ

    ১ ভুমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি কাকে বলে? ভুমিকম্প ও. আগ্রেয়গিরির অগ্যুৎপাতের কারণ ও ফলাফল বর্ণনা কর।

    ২। স্থুল জন্মহার নির্ণয়ের পদ্ধতি লিখ। জনসংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলে প্রাকৃতিক সম্পদের উপর অতিরিক্ত জনসংখ্যার প্রভাব বিশ্লেষণ কর।


    অ্যাসাইনমেন্ট শুরু

    ১ নং প্রশ্নের উত্তর


    ভূমিকম্পঃ

    পৃথিবীর কঠিন ভূত্কের কোনো কোনো অংশ প্রাকৃতিক কোনো কারণে কখনো কখনো অল্প সময়ের জন্য হঠাৎ কেঁপে ওঠে। ভূত়ৃকের এরুপ আকস্মিক কম্পনকে ভূমিকম্প বলে। 

    ভূমিকম্পের প্রধান কারণঃ

    • পৃথিবীর উপরিভাগ কতকগুলো ফলক/প্রেট দ্বারা গঠিত। এই প্রেটসমূহের সঞ্চালন প্রধানত ভূমিকম্প ঘটিয়ে থাকে।
    • অগ্যুৎপাতের ফলে প্রেটসমূহের উপর ভূকম্পন সৃষ্টি হয়।

    অপ্রধান কারণঃ

    ১। শিলাচ্যুতি বা শিলাতে ভাজের সৃষ্টি : কোনো কারণে ভূপৃষ্ঠের অভ্যন্তরে বড় ধরনের শিলাচ্যুতি ঘটলে বা শিলাতে তাজের সৃষ্টি হলে ভূমিকম্প হয়।

    ২। তাপ বিকিরণ : ভত্বক তাপ বিকিরণ করে সংকুচিত হলে ফাটল ও ভাজের সৃষ্টি হয়ে ভূমিকম্প হয়।

    ৩। ভূগর্ভস্থ বাম্প : পৃথিবীর অভ্যন্তরে অত্যধিক তাপের কারণে বাম্পের সৃষ্টি হয়। এই বাষ্প ভূত্কেরৎ নিম্নভাগে ধাক্কা দেওয়ার ফলে প্রচন্ড ভূকম্পন অনুভূত হয়।

    ৪। ভূগর্ভন্থ চাপের বৃদ্ধি বা হ্রাস : অনেক সময় ভূগর্ভে হঠাৎ চাপের হ্রাস বা বৃদ্ধি হলে তার প্রভাবে ভূমিকম্প হয়।

    ৫। হিমবাহের প্রভাব : হঠাৎ করে হিমবাহ পর্বতগাত্র থেকে নিচে পতিত হলে তৃপৃষ্ঠ কেঁপে ওঠে এবং ভূমিকম্প হয়।

    ভূমিকম্পের ফলাফলঃ

    ভূমিকম্পের ফলে ভূপৃষ্ঠের অনেক ধরনের পরিবর্তন ঘটে এবং বহু ধ্বংসলীলা সাধিত হয়। ঘরবাড়ি, ধনসম্পদ ও যাতায়াত ব্যবস্থা বিনষ্ট হয়। এতে জীবনেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়ে থাকে। নিচে ভূমিকম্পের ফলাফল আলোচনা করা হলো :

    (১) ভূমিকম্পের ফলে ভূত্ককের মধ্যে অসংখ্য তাজ, ফাটল বা ধসের সুষ্ট হয়। নদীর গতিপথ পাল্টে যায়।

    (২) ভূমিকম্পের ফলে অনেক সময় সমুদ্র তল উপরে উচিত হয়, পাহাড়-পর্বত বা দ্বীপের সৃষ্টি করে। আবার কোথাও স্থলভাগের অনেক স্থান সমুদ্রতলে ডুবে যায়।

    (৩) ভূমিকম্পের ফলে অনেক সময় নদীর গতি পরিবর্তিত হয় বা কখনো কখনো বন্ধ হয়ে যায়। কখনো কখনো নদী শুকিয়ে যায়। আবার সময় সময় উচ্চভূমি অবনমিত হয়ে জলাশয়ের সৃষ্টি হয়।

    (8) ভুমিকম্পের কলে অনেক সমর পর্বতগাত্র থেকে হিমানীসম্ফাপাত হয় এবং গর্তের উপর শিলাপাত হয়।

    (৫) ভুমিকম্পের কলে হঠাৎ করে সমুদ্র উপকূল সংলগ্ন এলাকা জলোচ্ছাসে প্রাবিত হয়।


    আগ্নেয়গিরিঃ

    ভুত্বকের শিলাস্তর সবর্ত্র এক ধরনের কঠিন বা গভীর নয়। কোথাও নরম আবার কোথাও কঠিন। কোনো কোনো সমর ভূগর্ভের চাপ প্রবল হলে শিলাস্তরের কোনো দুর্বল অংশ ফেটে যায় বা সুড়ঙ্গের সৃষ্টি হয়।ভুপৃষ্টের দুর্বল অংশের ফাটল বা সুড়ঙ্গ দিয়ে ভূগর্ভের উষ্ণ বায়ু, পলিত শিলা, ধাতু, ভষ্ম, জলীয়বাষ্প, উত্তপ্ত পাথরখন্ড, কাদা, ছাই প্রভৃতি গ্রবলবেগে উর্ধে উৎক্ষিপ্ত হয়। জূপৃষ্ঠে ঐ ছিত্রপথ বা ফাটলের চারপাশে কমশ জমাট বেধে যে উচু মোচাকৃতি পর্বত সৃষ্টি করে ভাকে আগ্নেয়গিরি বলে।

    আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণঃ

    (১) ভূত্বকের দুর্বল স্থান বা ফটিন দিরে ভূঅত্যন্তয়ের গলিভ ম্যাগমা, ভস্ম, ধাতু প্রবল বেগে বের হরে অগ্ন্যুৎপাত ঘটায়।

    (২) যখন ভূপৃষ্টের চাপ কমে যায় তখন ভূগর্ভের শিলাসমৃহ স্থিতিস্থাপক অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় পরিণত হয়। এতে শিলার আয়তন বৃদ্ধি পায়। ফলে তরল পদার্থ দুর্বল স্থান ভেদ করে প্রবলবেগে উৎক্ষিপ্ত হয়ে অগ্ন্যুৎপাতের সৃষ্টি হয়।

    (৩) কখনো কখনো ভূত্বকের ফাটল দিয়ে নদী-নালা, খাল-বিল এবং সমুদ্রের পানি ভূগর্ভে প্রবেশ করলে প্রচণ্ড উত্তাপে বাম্পীভূত হয়। ফলে আয়তন বৃদ্ধি পেয়ে ভূত্বক ফাটিয়ে দেয়। তখন এঁ ফাটলের ভিতর দিয়ে পানি, বাষ্প, তপ্ত শিলা প্রভৃতি নির্গত হয়ে অগ্ন্যুৎপাত ঘটায়।

    (৪) ভূগর্ভে নানা রাসায়নিক ক্রিয়া ও বিভিন্ন তেজক্কিয় পদার্থের প্রভাবে প্রচুর তাপ বৃদ্ধি পেয়ে গ্যাসের সৃষ্টি হয়। তাতে ভূঅভ্যস্তরের চাপ বৃদ্ধি পায় এবং অগ্ন্যুৎপাত ঘটায়। 

    (৫) ভূআন্দোলনের সময় পার্শচাপে ভূত্বকের দুর্বল অংশ ভেদ করে এ উত্তপ্ত তরল লাভা উপরে উত্থিত হয়। এভাবে ভুআন্দোলনের ফলেও অগ্ন্যুৎপাত হয়।


    আগ্নেয়গিরির অগ্যুৎপাতের ফলাফলঃ

    আগ্নেয়গিরির অগ্যুৎপাতের ফলে ভূপৃষ্ঠের অনেক পরিবর্তন সাধিত হয়। অন্যদিকে ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে সঙ্গে কোনো কোনো স্থানে এর দ্বারা সামান্য সুফলও পাওয়া যায়। নিম্নে আগ্নেয়গিরির ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হলো : 

    ১। অনেক সময় আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত পদার্থ চারদিকে সঞ্চিত হয়ে মালভূমির সৃষ্টি করে। ভারতের দাক্ষিণাত্যের কৃষ্ণমৃত্তিকাময় মালভূমি এরুপ নির্গত লাভা দিয়ে গঠিত।

    ২। সমুদ্র তলদেশেও অনেক আগ্নেয়গিরি আছে। এ থেকে নির্গত লাভা সঞ্চিত হয়ে দ্বীপের সৃষ্টি হয়। প্রশান্ত মহাসাগরের হাওয়াই স্বীপপুঞ্জ এভাবে সৃষ্ট একটি আগ্নেয় স্বীপ।

    ৩। আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ভূপৃষ্ঠের কোনো অংশ ধসে গভীর গহব্বরের সৃষ্টি হয়। ১৮৮৩ সালে সুমাত্রা ও জাভা স্বীপের মধ্যব্তী অংশে অগ্ন্যুৎপাতের ফলে এক বিরাট গহ্বর দেখা যায়।

    ৪। মৃত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে পানি জমে আগ্নেয় হ্রদের সৃষ্টি করে। আলাস্কার মাউন্ট আডাকামা, নিকারাগুয়ার কোসেগায়না এ ধরনের হুদ।

    ৫। আগ্নেয়গিরির নির্গত লাভা, শিলা দ্রব্য প্রভৃতি দীর্ঘকাল ধরে একটা স্থানে সঞ্চিত হয়ে পর্বতের সৃষ্টি করে। এ ধরনের পর্বতকে আগ্নেয় পর্বত বলে। যেমন- ইতালির ভিসুভিয়াস।

    ৬। অনেক সময় আগ্নেয়গিরির লাভা সঞ্চিত হতে হতে বিস্তৃত এলাকা নিম্ন সমভূমিতে পরিণত হয়। যেমন- উত্তর আমেরিকার স্নেক নদীর লাতা সমভূমি।


    ২নং প্রশ্নের উত্তর

    স্কুল জন্মহারঃ

    সাধারণ জন্মহারের চেয়ে স্কুল জন্মহার বহুল প্রচলিত ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি। এই পদ্ধতি হাজারে প্রকাশ

    করা হয়ে থাকে। কোনো বছরে জন্মিত সন্তানের মোট সংখ্যাকে উত্ত বছরের মধ্যকালীন মোট জনসংখ্যা

    দিয়ে ভাগ করে স্থূল জন্হার নির্ণয় করা হয়। একে নিমোন্তরূপে দেখানো যেতে পারে।

    নবম (৯ম) ভূগোল ৫ম সপ্তাহ অ্যাসাইনমেন্ট

    প্রাকৃতিক সম্পদের উপর অতিরিক্ত জনসংখ্যার প্রভাবঃ

    জনসংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলে সরাসরি প্রভাব পড়ে ভূমির উপর । একটি দেশের ভূমি সীমিত হওয়ায় জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গো সঙ্গে সেই দেশে উৎপাদন বৃদ্ধি করার প্রয়োজন দেখা দেয়। বেশি খাদ্য উৎপাদনের জন্য ভূমি অধিক ব্যবহার হয়। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভূমির  কিছু ক্ষেত্রে অধিক ব্যবহার নিম্নে দেওয়া হলোঃ 

    • অধিক ফলনের জন্য অধিক হারে সার ও কিটনাশকের ব্যবহার।
    • বন ও পাহাড় কেটে আবাদি জমি তৈরি।
    • অধিক বসতবাড়ি ও গৃহস্থলি কাজে ব্যবহার।
    • বাণিজ্যকেন্দ্র স্থাপন।
    • যোগাযোগ স্থাপনের জন্য বিভিন্ন মাধ্যম তৈরি।

    ভূমির অধিক ব্যবহার, খণ্ডিতকরণ প্রভৃতির কারণে দিন দিন উৎপাদনযোগ্য ভূমি কমে যাচ্ছে। বসতি বিস্তারের ফলে উন্মুক্তস্থান, জলাশয় প্রভৃতি কমে যাচ্ছে। মাটিতে যে সকল অণুজীব, ক্ষুদ্রজীব বাস করে তা বাধাগ্রস্ত হয়। দুষিত মাটিতে উদ্ভিদ জন্মাতে পারে না। ফলে ভূমি মরুকরণ হতে থাকে। তাই যে কোনো দেশের ভূমি ব্যবহার সঠিকভাবে করার জন্য জনসংখ্যার ভারসাম্য থাকা দরকার।

    মানুষের বেঁচে থাকার জন্য পানি অপরিহার্য । জনসংখ্যার অতিরিক্ত বৃদ্ধি পানির উপর যথেষ্ট প্রভাব ফেলে। পৃথিবীর শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ পানি, কিন্তু সকল পানির শতকরা ৯৭ ভাগ লবণাক্ত বা লোনা। তাহলে আমাদের খাবার উপযুত্ত পানি মাত্র শতকরা ৩ ভাগ। পানির ব্যবহার ও ক্ষতিকর দিক নিচে উল্লেখ করা হলো :

    • সেচ কাজের জন্য ভূগর্ভস্থ পানি উত্তলোন ফলে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া।
    • বেশি পানি উত্তলোনের কারণে সমুদ্রের লোনা পানি ভুগর্ভে প্রবেশ।
    • তেল ও বর্জ্য রাসায়নিক দ্রব্য পানিতে উন্মুক্তকরণ।

    জনসংখ্যা অধিক বৃদ্ধি পেলে উপরিউক্ত কাজগুলো বৃদ্ধি করার প্রয়োজন হয়, যা পানির উপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে। জলজ ক্ষুদ্র উদ্ভিদ, প্ল্যা্ংটন, কচুরিপানা, শেওলা প্রভৃতি জন্মাতে পারছে না। পর্যায়ক্রমে ছোট মাছ ও বড় মাছ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে জলজ সম্পদ দিন দিন-হ্রাস পাচ্ছে। 

    অধিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে আবাসস্থল নির্মাণ, শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষি ভূমি হ্রাস প্রভৃতির কারণে বন, পাহাড় প্রভৃতি কাটা হচ্ছে, ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

    আরো দেখুনঃ



    নবীনতর পূর্বতন